পাম অয়েল রফতানি কর ১০ শতাংশ বহাল মালয়েশিয়ার

মালয়েশিয়া জানুয়ারিতে সরবরাহের জন্য অপরিশোধিত পাম অয়েলের ওপর ১০ শতাংশ রফতানি কর বহাল রেখেছে।

মালয়েশিয়া জানুয়ারিতে সরবরাহের জন্য অপরিশোধিত পাম অয়েলের ওপর ১০ শতাংশ রফতানি কর বহাল রেখেছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সার্কুলারে নিজস্ব ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানিয়েছে মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ড (এমপিওবি)। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

মালয়েশিয়ার রফতানি শুল্ক কাঠামো অনুযায়ী, প্রতি টন পাম অয়েলের মূল্য ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৪০০ রিঙ্গিতের মধ্যে হলে শুল্ক হার শুরু হয় ৩ শতাংশ থেকে। তবে পণ্যটির মূল্য ৪ হাজার ৫০ রিঙ্গিত অতিক্রম করলে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হয়।

এদিকে পাম অয়েলের রেফারেন্স মূল্য বেড়েছে মালয়েশিয়ায়। সার্কুলারে এমপিওবি জানায়, জানুয়ারিতে সরবরাহের জন্য পণ্যটির রেফারেন্স মূল্য টনপ্রতি ৫ হাজার ১ দশমিক ৭২ রিঙ্গিত (১ হাজার ১২০ ডলার ৯৬ সেন্ট) নির্ধারণ করা হয়েছে, ডিসেম্বরে যা ছিল টনে ৪ হাজার ৪৭১ দশমিক ৩৯ রিঙ্গিত।

প্রসঙ্গত, রেফারেন্স মূল্য হলো এমন একটি মানদণ্ড, যা সরকার বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনো পণ্য বা আমদানির ওপর কর বা শুল্ক নির্ধারণ করতে ব্যবহার করে। পাম অয়েলের ক্ষেত্রে রেফারেন্স মূল্য রফতানি শুল্ক হিসাব করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাম অয়েল রফতানিকারক দেশ মালয়েশিয়া। রেফারেন্স মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় জানুয়ারিতে পাম অয়েল শুল্ক আয় বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ফিউচার মার্কেটে গতকাল পাম অয়েলের দাম টানা পাঁচদিনের মতো কমেছে। অন্যান্য ভোজ্যতেলের কম দাম পণ্যটির বাজারদর কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে মার্চে সরবরাহ চুক্তিতে পাম অয়েলের দাম কমেছে ৫৪ রিঙ্গিত বা ১ দশমিক ১৯ শতাংশ। প্রতি টনের মূল্য নেমেছে ৪ হাজার ৪৭৫ রিঙ্গিতে (৯৯৪ ডলার ৪৪ সেন্ট)।

অন্যদিকে ডালিয়ান কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (ডিসিই) সয়াবিন তেলের দাম কমেছে ৩ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। পাম অয়েলের দাম কমেছে ২ দশমিক ১৬ শতাংশ। এছাড়া শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে গতকাল সয়াবিন তেলের দাম দশমিক ২৫ শতাংশ কমেছে।

রয়টার্সের টেকনিক্যাল অ্যানালিস্ট ওয়াং টাওয়ের দেয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, সামনের দিনগুলোয় পাম অয়েলের দাম টনপ্রতি ৪ হাজার ২৭৩ থেকে ৪ হাজার ৩৭০ রিঙ্গিতে নেমে যেতে পারে।

বিশ্বে ভোজ্যতেলের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশ ভারত। দেশটি সম্প্রতি খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টা করছে। এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ভারত জানুয়ারি পর্যন্ত প্রধান কৃষিপণ্যগুলোর ডেরিভেটিভস চুক্তির ব্যবসা স্থগিত রেখেছে। এর মধ্যে অপরিশোধিত পাম অয়েল ও সরিষা তেলও অন্তর্ভুক্ত আছে।

আরও